১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সোমবার | বর্ষাকাল | বিকাল ৪:০০
সংবাদ শিরোনামঃ
ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির সদস্যদের জন্য সিমেক হেলথে অর্ধেক ছাড় ভেড়ামারা শহরের যানজট নিরসনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুরের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি / নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম/ পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছিনতাইয়ের শিকার ডিম ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান । রাজপথের লড়াকু সৈনিক মানবতার সেবক ভেড়ামারার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসএস. আল হুসাইন সোহাগ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে হিমেল সীমান্ত ও ঈগল এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক কুষ্টিয়া কৃষ্টির ষষ্ঠ সংখ্যা মোড়ক উন্মোচন/ কৃতি সাঁতারুদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ! ভেড়ামারায় অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিল শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশন
কুষ্টিয়ায় গড়াই নদ খননে ড্রেজারের কোটি টাকার তেল আত্মসাতের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় গড়াই নদ খননে ড্রেজারের কোটি টাকার তেল আত্মসাতের অভিযোগ

শাহীন আলম লিটন :
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার তেল চুরির অভিযোগে কুষ্টিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার বিভাগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় কুষ্টিয়ার গড়াই নদ খনন কাজের ড্রেজারের তেল চুরি ও আত্মসাতের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন দুদকের কর্মকর্তারা।

রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে দুদকের ৫ সদস্যের টিম অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে অভিযান পরিচালনা করেন তারা। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কুষ্টিয়া দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নীল কমল পাল বলেন, ড্রেজার বন্ধ থাকলেও সেটি চালু দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বিল ভাউচার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মন্ডল ফিলিং স্টেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে তেলের টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছুর আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর রিপোর্ট দাখিল করবো।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই নদ পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (চতুর্থ পর্যায়) খনন কাজ নিজেরাই সম্পন্ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গড়াই নদের উৎসমুখ থেকে হরিপুর সংযোগ সেতু পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং কুমারখালী উপজেলা থেকে বোরালিয়া ঘাট পর্যন্ত ৯ কিলোমিটারসহ মোট ১৪ কিলোমিটার নদীপথ খননের পরিকল্পনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আর এই প্রকল্পের তেল বহনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল মন্ডল ফিলিং স্টেশন।

আরও জানা যায়, ১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গড়াই নদীর মুখে মাটি কেটে পরীক্ষামূলক নদী খননের কাজ উদ্বোধন করেছিলেন। কিছু দিনের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে মাটি ও বালুতে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় ওই কাজে আর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। ওই সময় বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়। পরের বছর ১৯৯৮ সালে এ নদী পুনরুদ্ধারের লক্ষে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। সেই কাজ জিআরসি শেষ করার পরের বছর থেকেই আবারও মরুকরণের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানির স্তর নেমে যাওয়ায় গড়াই নদের মুখে বিশাল বালুরাশি জমে যাওয়ায় গড়াই নদ একেবারে মরাখালে পরিণত হতে থাকে। এর বড় প্রভাব পড়তে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের নদী এবং সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্যের ওপর।

কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর যশোর ও খুলনা এলাকাকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষাসহ আরো বেশ কয়েকটি লক্ষ্য নিয়ে ২০১০-১১ অর্থ বছর থেকে চার বছর মেয়াদী বৃহৎভাবে ডেজিং করতে গড়াই নদ পুনরুদ্ধার প্রকল্প-২ গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৪২কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর মুখ থেকে শুরু হয়ে কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন অফিস পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত খনন করা করা হয়। এ প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড দুটি ড্রেজার মেশিন ক্রয় করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জমা দেওয়ার আগেই এই দুটি ড্রেজার মেশিন নিয়ে কেলেঙ্কারীর ঘটনা ঘটে। ফলে তৎকালীন পিডি ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে এ প্রকল্প থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গড়াই নদ ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ৩য় ধাপে গড়াই অপটেক (জিরো) থেকে ১৬ কিলোমিটার প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ করা হয়।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তেল বহনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আক্তার মন্ডল বলেন, আমাকে যেখানে তেল পৌঁছে দিতে বলা হয়। আমি শুধু সেখানে নামিয়ে দেই। এটাই আমার কাজ। এর বাইরে কি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

এ বিষয়ে পিডি ও নির্বাহী প্রকৌশলী সৈকত বিশ্বাস দুদকের অভিযান ও অভিযোগের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার কৃষি ও জীব বৈচিত্রসহ লবণাক্তের আগ্রাসন থেকে গ্রেট ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে রক্ষায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় গড়াই খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রায় তিন দশক পূর্বে কয়েক হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নসহ গড়াই নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তবে কোনোভাবেই শুষ্ক মৌসুমে টেকসই নাব্যতা প্রবাহে প্রাণ পাচ্ছে না গড়াই।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024